বরিশাল সদর উপজেলাতেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ, কচা ও কীর্তনখোলা নদী বিধৌতা বরিশাল সদর উপজেলার আয়তন আয়তন ৩০৭.৫৯ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকষংখ্যা ৪,৬৯,৯৬০। ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দের এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮ জানুয়ারি । বরিশাল সদর থানার নামকরণ সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। বরিশাল নামকরণ নিয়ে একাধিক প্রবাদ প্রচলিত আছে।বাকলা অঞ্চল লবণ উৎপাদন ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর ব্যবসার জন্য প্রাচীনকাল হতে বিখ্যাত ছিল।শুল্ক আদায়ের প্রধান চৌকি ছিল গিরদে বন্দর। গিরদে অর্থ একটি নির্দিষ্ট এলাকা। গিরদে ছিল বরিশালের প্রাচীন একটি নাম। এখানে লবণের বড় বড় গোলা ছিল। গিরদে ছিল দক্ষিণ বাংলার লবণ শুল্ক আদায়ের প্রধান চৌকি। ইউরোপীয় বণিকগণ গিরদে বন্দরকে বড়িশল্ট বলতে। অনেকে মনে করেন, বড়িশল্ট পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল নাম ধারণ করে। আবার অনেকের মতে, এখানকার লবণের দানাগুলো বড় ছিল। তাই ইংরেজগণ এখানকার লবণকে বড়িশল্ট বলতেন। যা হতে বরিশাল নামের উৎপত্তি। কেউ কেউ বলেন, প্রাচীনকালে বরিশালে বড় বড় শাল বৃক্ষ ছিল। তাদের মতে বড়শাল বৃক্ষ হতে এলাকার নাম হয় বরিশাল। বরিশাল নামের আর একট কিংবদন্তি বেরি নামের এক পর্তুগিজ যুবক ও শেলি নামের এক পর্তুগিজ কন্যার নামের সাথে সম্পৃক্ত। বেরী নামের এ যুবক শেলীর প্রেমে পড়েন। কিন্তু প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বেরি আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় ‘বেরিশেলী’ যুগল নাম তখন লোকের মুখে মুখে। ‘বেরীশেলী’ই পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল হয়। কারো কারো মতে, শঅল অর্থ গৃহ, বরিশালে বড় বড় গৃহ নির্মিত হয় বলে এর নাম বড়শাল বা বরিশাল। আলোচ্য এলাকাটি একসময় ঘন জঙ্গলে আচ্ছন্ন ছিল। জঙ্গল পরিষ্কার করে এ জনপদের পত্তন হয়। জঙ্গলে প্রচুর বাঘ ছিল। স্থানীয় লোকজনের কাছে বাঘ বড় শিয়াল নামে পরিচিত ছিল এবং এর আঞ্চলিক উচ্চারণ ছিল বশিয়াল। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আঞ্চলিক ভাষার অভিধানে ‘বশিয়াল’ অর্থ বাঘ নির্দেশ করেছেন। কথিত হয়, এ বশিয়াল বা বড় শিয়াল থেকে বরিশাল নামের উদ্ভব। আবার অনেকের ধারণা, বুকরি চাল নামক এক প্রকার মোট জাতের চাল হতে বরিশাল নামের উদ্ভ। এক সময় আলোচ্য এলাকায় প্রচুর বুকরি চাল উৎপন্ন হতো। কথিত হয়, এ বুকরি চাল হতে বরিশাল নামের উদ্ভব। অন্য একটি প্রবাদমতে, বরিষার কাল বা বর্ষাকাল হতে বরিশাল নামের উদ্ভব।
Pages
▼
No comments:
Post a Comment