Translate

Saturday, 20 September 2014

নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক / এস এম আবীর চৌধুরী

নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক ১৯০১-২০১১
====================
এ বইয়ে ১৯০১ থেকে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যে সকল ব্যক্তি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার
অর্জন করেছেন তাঁদের ব্যক্তিজীবন ও সাহিত্যকর্ম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও আকর্ষণীয় স্মৃতিসহ বিধৃত করা হয়েছে। আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত গ্রন্থটির মূল্য ৫০০.০০ টাকা। প্রথম প্রকাশ : ২০১২

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আইনের প্রথম বঙ্গানুবাদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন / মোয়াজ্জেম হোসেন আকন্দ

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আইন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আইনের প্রথম গ্রন্থের লেখক কে? উত্তর হচ্ছে ড. মোহাম্মদ আমীন। গ্রন্থটিতে বঙ্গানুবাদ ও শেষ সংশোধনসহ মোট ১১টি আইন রয়েছে।

১৯০০ খ্রিস্টাব্দের হিল ট্র্যাক্ট রেগুলেশন ও ভূমি বিধি
অনুযায়ী পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সার্বিক শাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হত। এখনও ভূমি আইনসহ অনেক বিষয় এ রেগুলেশন অনুযায়ী নির্বাহ করা হয়। দেশের এক দশমাংশ এলাকায় প্রযোজ্য এ আইনটির কোন গ্রন্থরূপ ছিল না। টাইপ মেশিনে লেখা খণ্ড খণ্ড অধ্যায় দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হত। ড. মোহাম্মদ আমীন প্রথম সব আইন ও বিধি একত্রিত করে আইনসমূহ বঙ্গানুবাদ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনসমূহ নিয়ে বাংলা গ্রন্থিত এটি প্রথম গ্রন্থ।
গ্রন্থটি প্রকাশ করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। প্রথম প্রকাশ ২০০৪ এবং মূল্য ৩৫০ টাকা। প্রকাশকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন থোয়াইংচ প্রু মাস্টার ও জেলাপ্রশাসক ছিলেন  জনাব মো. মহসীন আলী বীর প্রতীক। 

বাংলা বানানে ভুল কারণ ও প্রতিকার / বুলবুল আহমেদ

বাংলা বানানে ভুল কারণ ও প্রতিকার

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। তবু অনেকে বাংলা লেখায় প্রচুর ভুল করে। এ ভুলের কারণ
প্রকাশক : আগামী প্রকাশনী
কী এবং কীভাবে এ ভুল থেকে সহজে রক্ষা পাওয়া যায় - এটিই গ্রন্থটির মূল আলেখ্য। এ ছাড়া এখানে বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কীরকম ভুল হয় তার কয়েকটি উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। বাংলা বানান ও ভাষা সম্পর্কে শুদ্ধতা অর্জন করতে হলে বইটি সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

Friday, 19 September 2014

অভয়নগরের ইতিহাস / ড. আলী যোবায়ের

অভয়নগরের ইতিহাস
===========
নাম দেখে বুঝা যায় এটি একটি ইতিহাস গ্রন্থ। যশোর জেলার একটি অন্যতম উপজেলা অভয়নগর। অভয়নগরকে বলা হয় বাংলাদেশের
সিঙ্গাযর।  লেখক প্রায় তিন বছর ঐ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি এ ইতিহাস গ্রন্থটি রচনা করেন। গ্রন্থটিতে অভয়নগরের ভূপ্রকৃতির গঠন, মনুষ্যনিবাসের সূচনা এবং বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ঘটনা আর্থসামাজিক ব্যবস্থারর বিবরণসহ বিধৃত।
শুধু অভয়নগর নয়, প্রসঙ্গক্রমে পুরো জেলা ও বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও গ্রন্থটিতে তথ্যসহ উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখক উপজেলা নির্বাহী অফিসার থাকায়  ইতিহাস চয়নে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে ও উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে সংগ্রহ করা সহজ হয়েছে। ফলেও গ্রন্থটিও হয়েছে গ্রহণযোগ্য। খুলনা অঞ্চল নিয়ে যারা গবেষণা করছেন বা করবেন তাঁদের জন্য এটি একটি আকর গ্রন্থ হতে পারে।

ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম : আধুনিক বাংলা গানের কাণ্ডারি / ড. মোহাম্মদ আমীন

ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম : আধুনিক বাংলা গানের কাণ্ডারি

শিরোনাম দেখে কেউ যেন আবার ভেবে না-বসেন আমি অতিরঞ্জন করেছি। আগে অনুগ্রহ করে প্রবন্ধটা পুরো পড়ে নিন। তারপর যা-ই বলুন, অন্তত ক্ষোভ থাকবে না।

বাংলাদেশের বর্তমান গীতিকবিতা ও চিরায়ত সঙ্গীত ভূবনে খ্যাতিমান প্রশাসক ও কবি ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম এক নতুন প্রবাহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর শ্রদ্ধার প্রতি নিবেদিত ‘বাঙালি জাতির সেরা গর্ব’, দেশপ্রেমের মুগ্ধতায় আপ্লুত ‘হে দেশ আমার গর্ব’, ‘একুশ তুমি’, ‘ভাষার প্রেম কাতর’ ও সাম্প্রতিক নারায়ণগঞ্জের ঘটনা নিয়ে চয়িত ‘জাগো নারায়ণগঞ্জবাসী’সহ প্রত্যেকটা সিডি সংগীত বোদ্ধাগণের মনে তুলে নিপুণ ঝড়, বিপুল স্বর আর বিমুগ্ধ প্রহর। অত্যাধুনিক যান্ত্রিক জগতে বর্তমান প্রজন্ম যখন চটুল গান ও ক্ষণস্থায়ী অপসংস্কৃতির স্রোতে গা ভাসিয়ে, সে সময় ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম চিরায়ত বাংলা গানের ঐশ্বর্যময় ঐতিহ্যকে আবার সবার সামনে তুলে ধরেছেন অনবদ্য দক্ষতার জাদুময় স্মারকে। তিনি বর্তমানে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব। সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিবেদিত থেকেও সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গনে তাঁর সরব পদচারণা বিস্ময়কর। তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ, গবেষক, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও বক্তা। বর্ণিত প্রতিটি ক্ষেত্রে তার রয়েছে স্বকীয় বোধ। যা ইতোমধ্যে তাঁকে স্বমহিমায় ভাস্বর করে তুলেছেন বোদ্ধামহলে।

ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ১২ জানুয়ারি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার দারিয়ালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া ও মায়ের নাম রমিছা বেগম। খুলনা বি এল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর  ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও
ম্যাজিস্ট্রেট পদে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরিকালীন তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থশাস্ত্রে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীকালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা ইন ডেভেলাপমেন্ট এডমিনিস্ট্রেশন ডিগ্রিও অর্জন করেন। সৎ, অমায়িক ও মননশীল চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক মূলবোধে বজ্রকঠোর মমতায় ঋদ্ধ জনাব ভূঁইয়া দেশের বিভিন্ন স্থানে দক্ষতা ও কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রভূত সুনামের অধিকারী হয়েছেন। তিনি পাট অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম মূলত কবি। তবে কবিতা আর গান যে কত নিবিড়, কত আপন এবং পরিপূরক-সম্পূরক তা কবির সংগীত জগতের জটিল পথে সুদক্ষ পদচারণার স্বতস্ফূর্ত অবলীলা তা-ই প্রমাণ করে দেয়। ইতোমধ্যে তাঁর ১৩টি কাব্য প্রকাশিত হয়েছে। তম্মধ্যে ১. হৃদয়ে প্যালেস্টাইন, ২. বিপন্ন অর্জুন , ৩. নির্বাচিত কবিতা [ইংরেজিতে অনূদিত], ৪. নীলপদ্ম ও পাথরের কবিতা (২০১০), ৫. বাণী বনের ফুলদল (২০১১), ৬. ওই রেখা তুমিই পেরোবে (২০১১), ৭. নন্দনবনবাণী (২০১২), ৮. উদ্যানর আড়াল থেকে (২০১২), ৯. তবু আছে তারা ও জোনাকি (২০১৩), ১০. সমিল শব্দের তীর এবং ১১. ডুবেছে অমৃত সূর্য (২০১৪)  বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সংখ্যার দিক থেকে তেমন বেশি না-হলেও কাব্যগুণ বিবেচনায় ভূইয়া সফিকুল ইসলাম বাংলা কাব্যে স্থায়ী আসন প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছেন - এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
কবিতায় তিনি শুধু কবি নন, ইতিহাস-ঐতিহ্য আর মানবতার প্রতিভূ। তুলনাহীন বাক্য বিন্যাস আর হৃদয়গ্রাহী বিষয় বরাতে আধুনিক কাব্য জগতে তিনি নিজস্ব ঢঙে সৃষ্টি করেছেন এক নতুন প্রান্তর, বিস্ময়কর দিগন্ত। এ দিগন্ত অসীম কোড়কে সীমাহীন লাবণ্যের প্রজ্ঞাময় স্নিগ্ধতা।  শুধু কবিতা কেন, প্রাবন্ধিক ও গবেষক হিসেবেও তার সাবলীল পদচারণা রয়েছে। বিশেষ করে রবীন্দ্র গবেষক হিসেবে বর্তমান বাংলা সাহিত্যে তিনি অসামান্য কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘রবীন্দ্রনাথ : আশ্রয়ের ছায়াতল’ রবীন্দ্র ভাবনায় সৃষ্টি করেছে এক নতুন প্রান্তর। যেখানে প্রেম, কষ্ট, ঘৃণা, দুঃখ, জীবন-মরণ, জ্বরা-বিঘ্ন সবকিছু মধুর মাধুরিমায় গ্রহণ-বরণের লীলা স্ফুরিত।
কবিতা তার সাহিত্যকর্মের প্রধান হলেও ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম বহুমুখী প্রতিভায় ভাস্বর এক ক্ষণজন্মা ইতিহাস। ইতিহাস শব্দটা সচেতনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সৃষ্টি শুধু প্রকাশ নয়, অন্তরের চারপাশ ঘেঁষে বেরিয়ে আসা বাস্তবতার জলন্ত সাক্ষ্য- মূলত এটাই তো ইতিহাস। গানকেও কীভাবে ইতিহাসের মতো উপস্থাপন করা যায় তা তাঁর গানগুলো না-শুনলে কেউ বিশ্বাস করতে চাইবেন না। কিন্তু এটাই সত্য, জাগো নারায়ণগঞ্জবাসী, বাঙালি জাতির সেরা গর্ব, একুশ তুমি প্রভৃতি সিডির গানগুলো কী শুধু গান! না, শুধু গান নয়, জীবন্ত ইতিহাস। শতবর্ষ পরেও এ সিডিগুলো সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে গানে গানে ইতিহাসের মতো তুলে ধরতে সক্ষম হবে।

আধুনিক বাংলা গানে তার অবদান অনস্বীকার্য। গীতিকার হিসেবে তার লেখা গানের সংখ্যা চারশ ছড়িয়ে গিয়েছে। ইতোমধ্যে তাঁর লেখা গান নিয়ে দেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান হতে ১৪টি সিডি প্রকাশ পেয়েছে।  তম্মধ্যে ১. নামো সন্ধ্যা ধীরে , ২. তুমি আমার শান্ত চোখের জল, ৩. তোমার স্মরণে, ৪. তোমার সুখে, ৫. আকাশ পাখিরা উড়ছে, ৬. একুশ তুমি, ৭. ওগো মেঘ আমার, ৮. ওরা ধর্মের কথা বলে, ৯. ভাষার প্রেমে কাতর আমি, ১০. হে দেশ আমার গর্ব, ১১. বাঙালি
জাতির সেরা গর্ব, ১২. জাগো নারায়ণগঞ্জবাসী এবং ১৩. তোমার ছোঁয়ায় প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কবি ও গীতিকার হিসেবে তার সুনাম ও অবদান যেমন সুবিদিত, তেমনি তিনি প্রশংসিত সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও। তাঁর লেখা অনেক গানের সুর ও কণ্ঠ স্রোতৃবৃন্দকে স্বপ্নীল বাস্তবতায় রূপোলি বিকেলের মতো অনবদ্য মুগ্ধতায় স্নিগ্ধ করে তোলে। তাঁর ভরাট কণ্ঠে যে কোনও গান ঝর্ণার মতো কলকল আর প্রকৃতির মতো লাস্য হয়ে ওঠে আগ্রহের কোলাহলে। অমায়িক দরদ তাঁর কণ্ঠের অবিচ্ছেদ্য অনুভাবনা হয়ে স্রোতাদের হৃদয়ে তোলে নিষ্পাপ তরঙ্গ।

ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও আপন কৃতিত্বে অবিনশ্বর। নিজের লেখা অধিকাংশ গানে তিনি নিজেই সুর দিয়েছেন, কণ্ঠও দিয়েছেন অনেক গানে। এটি আমাদেরকে রবীন্দ্র প্রতিভার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁর গানে কণ্ঠ দেওয়া অন্যান্য শিল্পীদের মধ্যে সুবীর নন্দী, আলম আরা মিনু, শামা, তিমির নন্দী, ফেরদৌস আরা, শারমীন সাথী ইসলাম, আলম মাহমুদ, সঞ্জয় রায়, স্বপন, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি, আবু বকর সিদ্দিক, চন্দনা মজুমদার এবং ভারতের জয়ন্ত দে, তনুশ্র দত্ত ও শম্পা কুণ্ডুসহ আরও অনেক খ্যাতিমান বোদ্ধা শিল্পী রয়েছে। 

সৃষ্টি নিঃসন্দেহে কৃতিত্বের কিন্তু কেউ যদি সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টির লালন ও অন্যকেও সৃষ্টিকাননে সন্তরণে সহায়তার উদ্যোগ নেন তিনি নিঃসন্দেহে মহাকৃতিত্বের অধিকারী। কষ্টকর শোনালেও সত্য যে, বর্তমানে বাংলা গানের ভূবনে চিরায়ত গানের মহা দুর্দিন চলছে। বিশ্বায়নের হাওয়া আমাদের বাংলা গানের সেই চিরকালীন প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতাকে যান্ত্রিক দৈতকণ্ঠের চিৎকারে গিলে ফেলার জন্য বিভৎস কণ্ঠ নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ন্যায় যেন তেড়ে আসছে। কোনও কাণ্ডারি নেই রক্ষা করার, কেউ নেই পৌরাণিক কাহিনীর আভির দস্যুদের কবল থেকে সুললিত সঙ্গীতের সঙ্গম মাধুর্যকে রক্ষা করার। অর্জুন স্তব্দ। বাংলা গানের উষ্ণ উপত্যাকা প্রেমের বদলে ধর্ষণাঘাতের বিকৃতিতে পোড়া যুবতীর দেহের মতো
ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। এমন  দুঃসময়ে আধুনিক বাংলা গানের কাণ্ডারি হয়ে এগিয়ে এসেছেন ভূইয়া সফিকুল ইসলাম। বাংলা গানকে ধর্ষণের অপমান হতে রক্ষা করার জন্য তিনি তাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন। এর প্রাথমিক প্রয়াস হিসেবে ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম নিজি সিডি বিক্রির দশ লক্ষ টাকা সংগীত শিল্পের উন্নয়নে প্রদান করেছেন। বাংলা সংগীতের ইতিহাসে এমন উদারতা ও নিঃস্বার্থ ত্যাগ সত্যি বিরল। এমন উদারতা শুধু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গে তুলনা করা যায়। বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে জাতীয় যাদুঘর প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সিডি বিক্রির ১০,০০০০০ টাকা দান করেন। ঐ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগীত উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি ছিলেন তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব আবুল কালাম আযাদ ও প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক এলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম।   সঙ্গীত তার কাছে নিজের মতোই প্রিয়। তিনি সঙ্গীতকে মনে করেন নিজের অনুভব। এ জন্যই তাঁর পক্ষে বাংলা সংগীতের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার সম্ভব হয়েছে।  

প্রেম, দ্রোহ, দেশপ্রেম, মরমিবোধ, মানবতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, জীবনপ্রলয়, প্রকৃতি, বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলন, দেশপ্রেম ও সর্বজনীনতা তার গানের মুল আলেখ্য।এ সকল বিষয়সহ জীবন-মননে অনিবার্য প্রতিটি বিষয় প্রাসঙ্গিকতা ওঠে এসেছে গানে গানে ইতিহাস হয়ে। এটাকে গানৈতিহাস বলা যায়। গানে এমন নতুন ধারা, এমন নতুন চিন্তা, এরূপ নতুন দৃষ্টি আর দেখা যায় না। সংগীতে তিনি রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করলেও তা কেবল শ্রদ্ধানিবেদিত আর্ষতা মাত্র। প্রকৃতপক্ষে ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম নিজ ঋদ্ধতায় এতই পরিপক্ক ও সচেতন যে, সৃষ্টির জন্য তাঁর কাউকে অনুসরণ করা আবশ্যকতা নেই। 

ভূঁইয়া সফিকুল ইসলামের তুলনা কেবল তাঁকে দিয়ে করা যায়। এখানেই তার পরিপূর্ণ সার্থকতা, এ জন্যই তিনি বাংল সংগীতের কাণ্ডারি।




Friday, 5 September 2014

বাংলা বানান ও ভাষাজ্ঞান প্রতিযোগিতা / ড. মোহাম্মদ আমীন

বাংলা বানান ও ভাষাজ্ঞান প্রতিযোগিতা
শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) গ্রুপ এর স্লোগান হচ্ছে : শুদ্ধ বানান, শুদ্ধ ভাষা, বাংলা আমার ভালোবাসা।
এ স্লোগানকে সামনে রেখে শুবাচ যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছে তা হচ্ছে : শুদ্ধ বানান চর্চা ও বাংলা বানানে প্রমিত নিয়ম প্রয়োগে উৎসাহ প্রদান, বাংলা বানান ও
শব্দচয়নে ভুল কিংবা যথেচ্ছাচার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, বাংলা ভাষার প্রচার-প্রসার ও সমৃদ্ধায়নের লক্ষ্যে আলোচনা-পর্যালোচনা, গবেষণা ও উপযুক্ত গ্রন্থাদি প্রকাশ এবং লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এ গ্রুপের অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশে-বিদেশে অবস্থানরত বাংলাভাষী ছাড়াও যে সকল বিদেশি বাংলা ভাষা শেখার জন্য আগ্রহী গ্রুপের পক্ষ থেকে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা প্রদান।

শুবাচের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সারা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার নিমিত্ত শুবাচ চন্দনাইশ উপজেলা শাখার উদ্যোগে গত ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ হয়ে গেল
 পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিতিদের একাংশ
বিশাল এক আয়োজন। চন্দনাইশ উপজেলার ৯টি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দুটি গ্রুপে প্রতিযোগীদের বাংলা বানান ও ভাষাজ্ঞান যাচাই করা হয়।

বেশ উদ্দীপনামূলক এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কারস্বরূপ নগদ অর্থসহ পুস্তক বিতরণ করা হয়। জনাব নুর আহমদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, চন্দনাইশ উপজেলার সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শুবাচের প্রতিষ্ঠাতা ড. মোহাম্মদ আমীন। চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্নস্তরের জনগণের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়।
অনেকে বলেন, বাংলা ভাষার প্রতি তরুণ প্রজন্মের তেমন আগ্রহ নেই। কিন্তু বিভিন্ন
একজন বিজয়ীকে পুরস্কার দিচ্ছেন
উপজেলায় শুবাচের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তার উল্টোটাই প্রতীয়মান হয়েছে। উৎসাহ পেলে তরুণ প্রজন্মও নিজের মাতৃভাষাকে কত আগ্রহ আর মহীয়ান আনন্দে বরণ করতে পারে তার প্রমাণ এ প্রতিযোগিতা। তাদের শুধু প্রয়োজন একটু উৎসাহ।

Tuesday, 2 September 2014

ফুলেল শুভেচ্ছা বনাম ফুলের শুভেচ্ছা / ড. মোহাম্মদ আমীন

 ফুলেল শুভেচ্ছা বনাম ফুলের শুভেচ্ছা

অনেকে বলেন অমুক ভাইকে ফুলের শুভেচ্ছা। এর অর্থ অমুক ভাইকে ফুল শুভেচ্ছা দিয়েছে। তা কি কখনও সম্ভব? ফুল কাউকে কী শুভেচ্ছা দিতে পারে? এটা কীভাবে সম্ভব?



ফুলেল অর্থ : ফুলের মতো, সৌন্দর্য ও শ্রদ্ধাময়। এখানে ফুলকে রূপক অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে। ‍সুতরাং ফুলেল শুভেচ্ছা মানে ফুলের মতো শুভেচ্ছা। ফুল সৌন্দর্য, শ্রদ্ধা ও ভালবাসার চিরন্তন প্রতীক। তাই সে ফুলেল শুভেচ্ছা মানে সৌন্দর্য ও শ্রদ্ধাময় শুভেচ্ছা। কাউকে সম্মান ও শ্রদ্ধাসহকারে স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে ফুলেল শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ : আপনাকে ফুলের মতো সৌন্দর্যময় মুগ্ধতা ও অনুপম শ্রদ্ধা বরণা করা হল।
তা হলে ফুলের শুভেচ্ছা কীভাবে হয়? লিখতে পারেন ‘আমাদের শুভেচ্ছা’। কাউকে ফুল উপহার দেওয়া মানে ফুলের শুভেচ্ছা। ফুল দিয়ে মানুষের শুভেচ্ছা। কাউকে বই দিলে সেটি বইয়ের শুভেচ্ছা নয়; বই দিয়ে মানুষের শুভেচ্ছা। অবশ্য ফুলের পক্ষ থেকে কাউকে শুভেচ্ছা দিলে সেটি অন্য কথা। সে ক্ষেত্রে ফুলের পক্ষ হয়ে স্বাগত জানানোর জন্য মানুষের প্রয়োজন। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্বাগত বা শুভেচ্ছা দেওয়া হয়। যেমন : মাননীয় প্রধান অতিথিকে গাছবাড়ীয়া কলেজের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। তেমনি বলতে পারেন বলদা গার্ডেনের ফুলদের পক্ষ থেকে বাগানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা।
 ফুল কাউকে শুভেচ্ছা দিতে পারে না। মানুষ কাউকে ফুলেল বা ফুলের মতো শুভেচ্ছা দিতে পারে। যেমন : ‘প্রধান অতিথির প্রতি এলাকাবাসীর শুভেচ্ছা’ হতে পারে কিন্তু ‘প্রধান অতিথির প্রতি ফুলের শুভেচ্ছা’ হয় না। ফুল কীভাবে কাউকে শুভেচ্ছা দেবে? বরং মানুষ ফুলকে বিষেণ হিসেবে নিয়ে ফুলের মতো শুভেচ্ছা দেয়। যাকে ফুলেল শুভেচ্ছা বলা হয়।

‘ফুলেল’ শব্দের অর্থ পুষ্পময় বা ফুলের মতো, কুসুমিত, মুগ্ধকর, ফুলের মতো রমণীয়, বা মোহনীয় কিন্তু ‘ফুলের’ শব্দের অর্থ পুষ্পের। ‘ফুলেল’ বিশেষণ পদ কিন্তু ‘ফুলের’ বিশেষ্য পদ। ‘ফুলেল শুভেচ্ছা’ অর্থ ফুলের মতো রমণীয় শুভেচ্ছা বা পুষ্পময় বা কুসুমিত শুভেচ্ছা। সুতরাং ‘ফুলেল শুভেচ্ছা’ হতে পারে কিংবা হতে পারে ‘ফুলের মতো শুভেচ্ছা’ কিন্তু ‘ফুলের শুভেচ্ছা’ হতে পারে না। কারও হাতে বই তুলে দিয়ে দিয়ে যেমন বলা যায় না ‘বইয়ের শুভেচ্ছা বা ক্রেস্ট তুলে দিয়ে ক্রেস্টের শুভেচ্ছা জানালাম; তেমনি ফুল তুলে দিয়ে বলা যায় না ‘ফুলের শুভেচ্ছা জানালাম। ফুলেল বিশেষণ পদ, রূপক অর্থে শব্দটি ব্যবহার করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানের কোন বিশেষ অংশ না বুঝিয়ে ফুলেল শব্দ দ্বারা পুরো অনুষ্ঠানকে প্রকাশ করা হয়। ফুলের শুভেচ্ছা=ফুল+এর শুভ+ইচ্ছা।ফুলের নিজস্ব কোন ইচ্ছা থাকতে পারে না। কিন্তু, ফুলেল শুভেচ্ছা বলতে পুষ্পময়/ পুষ্পিত ও  শোভনীয় ইচ্ছা,  যে ইচ্ছা আপনি যে কোন প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা যায়। অনেকে ‘ফুলেল’ শব্দের পরিবর্তে ‘ফুলল’ শব্দও ব্যবহার কওে থাকেন। বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধানেও ‘ফুলল’ শব্দটি আছে। শব্দটি কিন্তু প্রমিত নয়, তেমন প্রচলিতও নয়।